মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনেদেনের ক্ষেত্রে অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম বিকাশ। কিন্তু সম্প্রতি বিকাশ-এর নাম ভাঙিয়ে অনেকেই প্রতারণা করছেন এবং প্রতারিত হচ্ছেন অনেক গ্রাহক। এজন্য বিকাশ কর্তৃপক্ষ বার বার সতর্কতা প্রচারণা করলেও গ্রাহক গন প্রতারক চক্রের কাছে নানা ভাবে প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে।
গত ২৭/০৭/২০২২ তারিখ রোজ- বুধবার, সময়- ৭:২১ মিনিট। স্থান- মিকশিমিল বাজারস্থ “আকলিমা কম্পিউটার এন্ড ফটোষ্ট্যাট সেন্টর” এ একটি মেয়ে আসে।
মেয়েঃ এই নম্বরে ১০,৪০০/- দিন।
দোকানঃ ঠিক আছে।(দোকানদার টাকা দিয়ে দিল)
মেয়েঃ টাকা কি চলে গেছে?
দোকানদারঃ হ্যা।
মেয়েটি বিকাশ একাউন্টে টাকা গিয়েছে কিনা সেটা চেক করার জন্য ফোনের অপর পাশে অচেনা একজনের সাথে কথা বলতে লাগল।একটু পর এসে বলল ঐ একই নম্বরে আবার ১০,৪০০/- দিন।
দোকানদারঃ আমার একাউন্টের টাকা শেষ হয়ে গেছে আপনি অন্য দোকান থেকে দিন।
মেয়েটি আবার কার সাথে যেন কথা বলতে লাগল। মেয়েটির চালচলন ভালো না দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। দোকানদার মেয়েটির কাছে বিকাশে পাঠানো ১০,৪০০/- টাকা চায়।মেয়েটি দোকানদারকে ৫০০০/-টাকা দিয়ে বলে একটু পরে অন্য দোকান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছি।
দোকানদারঃ অন্য দোকান কেন আমার দোকানেই ক্যাশ আউট করুন।
মেয়েটিঃ আমার ফোন থেকে ক্যাশ আউট করে নিন।
দোকানদারঃ আপনার ফোনে তো বিকাশ একাউন্ট ই নেই।
মেয়েটিঃ তাহলে এই ফোনে দেখুন।
দোকানদারঃ এই ফোনের একাউন্ট তো লক হয়ে গেছে।
মেয়েটিঃ আপনি অন্য দোকানে চলুন অন্য দোকান থেকে তুলে দিচ্চি।
দোকানদারঃ আপনার ফোনে টাকা নাই আপনি কিভাবে তুলবেন?
এই ভাবে খানিক্ষণ চলে কথা কাটা কাটি। একটা সময় দোকানদার বিরক্ত হয়ে মেয়েটিকে তার পিতা-মাতা বা অভিভাবকের কাছে কল করতে বলে।মেয়েটি তো তার পিতা মাতাকে কল করতে রাজি নয়। এদিকে দোকানের সামনে লোক জন জড় হয়ে যায়। অনেকে দোকানদারকে দোষারোপ করতে থাকে। “দোকানদার আগে টাকা না নিয়ে এত টাকা পাঠালো কেন?” বেশির ভাগ ই বলতে থাকে মেয়েটি বিকাশ চক্রের হাতে পড়েছে। এই ভাবে এক থেকে দেড় ঘন্টা চলে যায়।রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে মেয়ের বাবা ও তার কিছু আত্মীয় স্বজন আছে। মেয়ের বাবা তো রেগে আগুন। “মেয়ে এত টাকা পেল কোথায়? মেয়ে চহেড়া থেকে কেন এত দূরে এলো কিভাবে? মেয়ের অন্য ছেলেদের সাথে প্রেম আছে।” ইত্যাদি ইত্যাদি। বাজারের লোকজন বলতে থাকে , “না, আপনার মেয়ে বিকাশ প্রতারক চক্রের হাতে পড়েছে।”
এই ভাবে অনেক্ষণ চলে গেলে, মেয়ের পিতা ও আত্মীয় স্বজন দোকানদারকে বাকি ৫,৪০০/- টাকা পরিশোধ করে মেয়েকে নিয়ে চলে যায়।
প্রশ্ন-১ঃ প্রতিবেদক- আপনি বিকাশ এজেন্ট দোকানদার হয়ে টাকা আগে নেন নি কেন?
দোকানদারঃ- “মেয়েটি এসেই আমাকে ১০,৪০০/- টাকা দিতে বললে আমি তার হাতে দিকে তাকাই এবং দেখি তার হাতে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থা এক হাজার ও পাঁচশত টাকার নোট আর তাছাড়া সে মেয়ে হওয়ায় আমার তার উপর সন্দেহ হয় নি।কিন্তু সে যখন তার অস্বাভাবিক ভাবে ফোন কথা বলি তখন তাকে সন্দেহ হয়।কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
প্রশ্ন-২ঃ আপনার সাথে আগে এ রকম হয়েছে কি?
দোকানদারঃ হ্যা, এক/দুই মাস আগের কথা।আমার পরিচিত একজন ছেলে আমার কাছে এসে বলে ১৪,৬০০/- বিকাশ করতে । সে আমার দোকানে অনেক দিন ধরে বিকাশ সহ অন্যান্য লেনদেন করছে। তাই আমি ১৪,৬০০/-ওই নাম্বারে পাঠিয়ে দেই। তারপর যখন টাকা চাই তখন ছেলেটি এই মেয়ের মতো বলতে থাকে একটু অপেক্ষা কর একজন টাকা নিয়ে আসছে, আরও কিছু টাকা পুরো দাও তাহলে টাকা ফিরে আসবে। ইত্যাদি।শেষমেষ ছেলেটাকে আমরা আটকে রাখি, তার পিতা এসে তাদের ব্যাটারি ভ্যানটি রেখে যায় এবং বলে যায় টাকা দিয়ে ভ্যানটি ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। পরবর্তীতে টাকা নিয়ে ভ্যানটি নিয়ে যায়।”
প্রশ্ন-৩ঃ আপনারা কেন টাকা পাঠানোর আগে তাদের কে সতর্ক করে দেন না?
দোকানদারঃ আমাদের কাছে এসে তার ক্যাশ ইন বা টাকা পাঠিয়ে দিতে বলে। আমরা জিজ্ঞাসা করলে তারা বিরক্ত বোধ করে, অনেকে তো রেগে গিয়ে বলে, “ টাকা যেখানেই পাঠায় তোমার কি পাঠিয়ে দাও আর টাকা নাও।” সত্য কথা বলতে প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত কিছু বিষয় আছে যেটা তারা বলতে চায় না। যদি আমাদের কাছে বলত তবে আমরা তাদের সাহায্য করতাম।




0 মন্তব্যসমূহ